০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকট

বাগেরহাটে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই নেতার মনোনয়ন বাতিল চান বিএনপি নেতারা

কপিল কৃষ্ণ মন্ডল ও সোমনাথ দে

বাগেরহাটের দু‘টি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনয়ন পেয়েছে সাবেক দুই আওয়ামী লীগ নেতা। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার দেশে আসায় আশার আলো দেখছেন বিএনপির নেতারা। বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লহাট-চিতলমারী) আসনে মনোনয়ন পাওয়া মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পাওয়া মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে‘র মনোনয়ন বাতিল করে বিএনপির পরিক্ষিত নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার দাবী করেছে তারা।

 

একাধিক সুত্রে জানাগেছে, বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব ও বাংলাদেশ অশ্বিনী সেবা আশ্রমের সভাপতি। এছাড়া তিনি চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

অপরদিকে বাগেরহাট-৪ আসনে মনোনয়ন পাওয়া সোমনাথ দে  বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়া মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

 

এই দুইজন বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চায়ের দোকানে বিএনপির সমালোচনা ও নির্বাচনে ভরাডুবির কথা বলছেন অনেকেই। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে থাকা ছবি শেয়ার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার দেশে আসায় তারা এই দুই আসনে মনোনয়নের বিষয়ে তার দিকে চেয়ে আছেন। তারা বলছেন, নেতা দেশের বাইরে থেকে যখন যে নির্দেশ দিয়েছেন তা তারা তাৎক্ষনিক পালন করেছেন। তিনি যেহেতু দেশে এসেছেন এবার সেটার মূল্যায়ন হবে।

বা থেকে : আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের সাথে কপিল কৃষ্ণ, কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল

ফকিরহাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ গোলদার (সুব্রত) বলেন, বাগেরহাট- ১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলকে মনোনয়ন দেয়ায় তারা হতাস হয়েছেন। এটি কোন ভাবেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না।

 

মোল্লাহাটের উদয়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ শিমুল বলেন, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল আওয়ামী লীগের দালাল। তিনি সারা জীবন বিএনপির জন্য অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন। আজ যারা নির্যাতন করেছে তারাই বিএনপির মানোনয়ন পেয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে তিনি দলের ভিতর থেকে কারো মনোনয়ন দেয়ার দাবী জানান।

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন কপিল কৃষ্ণ মন্ডল

চিতলমারী উপজেলার হিজলা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোঃ তাইফুর রহমান বলেন, বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির অনেক প্রবীণ-তরুন যোগ্য ত্যাগী নেতৃত্ব রয়েছে। যারা শেখ হেলালের বিরুদ্ধে নির্বাচনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। তাদের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে মনোনয়ন দিলে এ আসনের মানুষ বিপুল ভোটে ধানের শীষকে নির্বাচিত করত। কিন্তু যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তিনি ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা ও শেখ হেলালের লোক।

বা থেকে : ১৫ আগষ্ঠ সোমনাথ দে। ভোটার বিহীন নির্বাচনে বিজয়ের পর বাগেরহাট ৪ আসনে আওয়ামী লীগে এমপি বদিউজ্জামান সোহাগকে জড়িয়ে ধরেন সোমনাথ দে

মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, বাগেরহাট-৪ আসনে মনোনয়ন পাওয়া সোমনাথ দে আওয়ামী লীগের লোক। তাকে মনোনয়ন দেয়া আর বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করা সমান। এটি কোন ভাবেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে আসায় তাকে এক নজর দেখে ও তার মুখের কথা শোনার জন্য তিনি ঢাকা গিয়েছেন। তিনি আশা করেন  ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়নের বিষয়টি নিজে বিবেচনা করবেন।

 

শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, ১৭টি বছর নানা অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন। একটু শান্তিতে রাতে ঘুমাতেও পারেন নি। এখন বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষে শত কাজ করলেও জনগন তাকে মেনে নেবে না। এই আসনে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচতে হলে এখনই প্রার্থী পরিবর্তন করতে হবে।

সাবেক স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর সাথে সোমনাথ দে

মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল হক বাবুল ও সাবেক সদস্য সচিব আ: জব্বার মোল্লা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে দূর্দিনের যারা বিএনপির নেতার্কীদের পাশে থেকেছেন তাদের মনোনয়ন দেয়ার দাবী জানান।

 

বাগেরহাট- ১ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাসী ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিগত সময়ে নেতার্কীদের নিয়ে মাঠে থেকে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। ২০১৮ সালে দলের মনোনয়নে নির্বাচন করেছেন। সেই নির্বাচনের পরে অনেক নেতাকে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। এবার দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাকে নেতার্কীরা মেনে নিচ্ছে না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে এসেছেন। তিনি সব বিষয়ে জানেন। এখন একমাত্র তিনিই এই এলাকার বিএনপির ভরসা।

 

বাগেরহাট- ৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাসী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সহযোগী। তিনি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে নানা অপকর্ম করেছেন। তাকে মনোনয়ন দেয়া মানে এই আসন বিএনপির হাতছাড়া হওয়া। বিভিন্ন দলের জল খাওয়া সোমনাথ জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ হয়ে এখন বিএনপির প্রার্থী।

১৭ বছর যেসব নেতাকর্মী জেল খেটেছে, নির্যাতন সহ্য করেছে তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে অধির আগ্রহে তাকিয়ে আছেন বলেন এই নেতা।

 

স্থানীয় সুত্র জানায়, গত বছরের আগস্টে সোমনাথ দে আওয়ামী লীগ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। এর আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সংখ্যালঘু বিষয়ক উপদেষ্টা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ছিলেন। ২০১৮ সালের ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বাগেরহাট-৪ আসনে নির্বাচন করেছিলেন। ২০১৯ সালের শেষের দিকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০২২ সালে গঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটিতে তিনি ৩ নম্বর সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছিলেন।

 

দেশবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল চলতি বছরের মার্চে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। অপর একটি মামলায় কারাভোগ করেছেন সোমনাথ দে। জেল থেকে বের হয়ে সনাতন ধর্মের অনুসারীদের নিয়ে ২০ আগস্ট বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন কপিল ও সোমনাথ।

বিষয়