০৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপকূলীয় উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা: তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন শেখ ফরিদুল ইসলাম

লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনগত সংস্কারে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবন, মোংলা সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জলবায়ু ঝুঁকির মতো বিষয় সরাসরি বাগেরহাটের মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। ফলে স্থানীয়রা মনে করছেন, এই অঞ্চলের একজন প্রতিনিধি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে।

লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন। প্রায় দেড় যুগ ধরে মোংলা-রামপালের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পাশে থেকে সামাজিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এ কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবেও পরিচিতি পান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও পরিবেশবাদী পরিচিতি তাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, আমরা আগে থেকেই দাবী করেছিলমা। আমরা সত্যিই সম্মানিত ও গর্বিত। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে আইন, বিচার ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান আমাদের এলাকার প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গভীর আস্থা ও মূল্যায়নের প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, শেখ ফরিদুল ইসলাম এই দায়িত্বগুলো দক্ষতার সঙ্গে পালন করে মোংলা-রামপালসহ সমগ্র দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।”

রামপালের কৃতিসন্তান আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, প্রতিমন্ত্রী উপমন্ত্রী আমরা আগেও পেয়েছি। ৩০ বছর ধরে রামপাল-মোংলায় প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিল। কিন্তু অবহেলার চরম পর্যায়ে পৌচেছে আমাদের অবহেলিত জনপদ।

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সাহেবের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ এই জনপদ আলোর মুখ দেখবে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি আইন ও বিচার ব্যবস্থায় সংস্কার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া শুধু একজন ব্যক্তির সাফল্য নয়; এটি বাগেরহাট অঞ্চলের রাজনৈতিক গুরুত্বেরও প্রতিফলন। উপকূলীয় এই জেলার উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আইনগত সংস্কারে নতুন এই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালনের মাধ্যমে তিনি বাগেরহাটকে সারা দেশে তুলে ধরবেন এমনটাই প্রত্যাসা সবার।

বিষয়