বাগেরহাটের শরণখোলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (২৬) নামের মালয়েশিয়া প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ৩জনকে আটক করা হয়েছে। তবে শরণখোলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্থানীয়রা বলছে তার কার্ডিয়াক অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে। এদিকে নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুমকে বিএনপি তাদের কর্মী দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার জন্য জামায়াত কর্মীদের দায়ী করছে। তবে উপজেলা জামায়তের পক্ষ থেকে সেই দাবী প্রত্যাখ্যান করে ওই এলাকায় কোন জামায়াত কর্মী নেই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার (০২ মার্চ) বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে রবিবার (০১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম উপজেলার খুড়িয়াখালি গ্রামের মৃত: আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। মাস দুয়েক আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন তিনি।
সরেজমিনে স্থানীয় ও নিহতের পরিবারে সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলে আসছিল। নির্বাচনের পর নিহতের ভাইয়ের ছেলে মোঃ রিয়াদ মাহমুদ একটি মারামারির ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এতে সাবেক আওয়ামী নেতা আফজাল বয়াতি ও তার লোকজনের সাথে নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুমের শশুরের কথা কাটাকাটি হয়। এঘটনার পর নিহত আরিফুল ইসলাম তার শশুরবাড়ির সামনের দোকানে প্রতিপক্ষকে দেখে নেয়ার হুমকী দিয়ে চলে যায়। পরে সে রবিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় আফজাল বয়াতি ও তার লোকজন তার উপর চড়াও হয়। পরে সে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি চলে যায়। এঘটনা জানতে পেরে এক ঘন্টাপর স্থানীয় সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটন ও একই ইউনিয়নের জামায়াত সেক্রেটারী গোলাম সরোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার জন্য বলেন। এসময় নিহত আরিফুল ইসলাম ওই স্থানে আসেন। তিনি বুকে ব্যাথা করছে বলে স্থানীয়দের ধরতে বলেন। পরে তাকে শরণখোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের ভাইয়ের ছেলে মোঃ রিয়াদ মাহমুদ বলেন, শ্বশুর বাড়ি থেকে ফেরার সময় ফোন দিলে আমি মোটরসাইকেল নিয়ে মাসুমকে আনতে যাই। চাচার কাছে পৌছালেই আফজাল বয়াতি ডাক চিৎকার শুরু করে। মুহুর্তের মধ্যেই ১৫-২০ জন এসে আমাদের উপর হামলা করে। আমি পালিয়ে আসতে পারলেও, ওরা মাসুমকে বেধরক মারপিট করে।
নিহতের শ্বশুর ডালিম খান জানান, রাতে তার বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন জামাই (আরিফুল ইসলাম মাসুম)। পথিমধ্যে আফজাল বয়াতি ও তার লোকজন জামাইয় ও তার ভাইয়ের ছেলের উপর হামলা করে।
তবে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা: নাইম ইসলাম বলেন, অসুস্থ অবস্থায় আসলে আমরা তাকে অক্সিজেন দেই এবং ভর্তি হতে বলি। তার কার্ডিয়াক এ্যাটাক হয়। আপতত বলা যায় তার হৃদযন্ত্র ফাংচন না করায় মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে এঘটনায় শরণখোলা থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২জনকে আসামী করে হত্যা মামলা করেছে নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন নির্বাচনকালীন সময়ে একটি ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে মাসুমের উপর হামলা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শরণখোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা আমীর রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, এই হামলার সাথে জামায়েতের কোন নেতাকর্মী জড়িত নয়। নিহতের পরিবারের লোকজন যাদের নাম বলেছে তারা কখনও জামায়াতের কর্মী ছিল না। একটি মহল এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। যদি আসলেই হামলার ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সামিনুল হক জানান, মাসুমের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমরা এজাহারনামীয় তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি। বাকি আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।








