বাগেরহাট শহরের কাপড়ের পট্টি এলাকায় ঐতিহাসিক গাজী কালুর আস্তানায় ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা আস্তানায় আসতে শুরু করেন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
গাজী কালুর আস্তানায় এসে ভক্তরা জিকির-আজকার, নামাজ আদায় ও দোয়া করেন। অনেকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে আধ্যাত্মিক পরিবেশে ইবাদত-বন্দেগিতে অংশ নেন। তবে আস্তানায় পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
ভক্তদের অভিযোগ, একসময় গাজী কালুর আস্তানাকে ঘিরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও বর্তমানে এর অনেকাংশ বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের বসা, বিশ্রাম নেওয়া কিংবা স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ভক্তরা গাজী কালুর আস্তানার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করার পাশাপাশি আস্তানার জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, আস্তানার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এর সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ এবং ভক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মাজারের প্রধান খাদেম জামাল ফকির বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা গাজী কালুর দরগায় আসেন। তারা এখানে জিকির-আজকার করেন এবং মসজিদে নামাজ আদায় করেন। অনেক ভক্ত দূর-দূরান্ত থেকে এসে কিছু সময় এখানে অবস্থান করেন।”
তিনি আরও বলেন, “মাজারের জমি প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছেন। এ কারণে ভক্তরা এসে আগের মতো বিশ্রাম নিতে পারেন না। আস্তানার জমি দখলমুক্ত করে সংস্কার করা প্রয়োজন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারবেন।”
স্থানীয়দের মতে, গাজী কালুর আস্তানা বাগেরহাট শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। এখানে বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ আসেন। ভক্তদের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও তাদের বসা, বিশ্রাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
তাই ঐতিহাসিক এ আস্তানার জায়গা সংরক্ষণ, দখলমুক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে ভক্তদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।










