বাগেরহাটের চাঞ্চল্যকর আইনজীবী অ্যাড. নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ৫০ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি আধুনিক ছোরাও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ জুলাই দিবাগত রাত ১টার দিকে আদালতের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালী এলাকার তেঁতুলতলা মোড়ে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্তকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ টিম কাজ শুরু করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সদর উপজেলার পিসি ডেমা এলাকা থেকে বাগেরহাট আলিয়া মাদ্রাসা রোড এলাকার শেখ আবু দাউদের ছেলে শেখ মুরাদ ও আবু তাহের দীপ, মির্জাপুর গ্রামের মোকসুদ আলীর ছেলে মো. হাফিজুর রহমান ও এস্কেনদার শেখের মো. শিপন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া শেখ মুরাদ হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি আধুনিক ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। মুরাদ রাত ১০টা থেকেই অ্যাড. শান্তর মোটরসাইকেলের পিছনেই ছিল। তারা পরস্পরে বন্ধু ছিল এবং প্রায়ই গভির রাত পর্যন্ত এক সাথে থকতো বলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জনাবে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য, উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটনের আশা করছে পুলিশ।









