বাগেরহাটের ফকিরহাটে চিংড়ি পোনার সংকট নিরসন এবং চিংড়ি শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে প্রেস ব্রিফিং করেছেন প্রান্তিক চিংড়ি চাষিরা। সোমবার দুপুরে ফকিরহাট চিংড়ি পোনা আড়তে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রান্তিক চিংড়ি চাষিদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কামরুল ইসলাম গোরা। এসময় শেখ ইফতেখার আহম্মেদ পলাশ, খান লিয়াকত হোসেন, মোড়ল কামরুজ্জামান, শেখ মুসফিকুজ্বিজামান রিপন, লায়ন দেলোয়ার হোসেন,ভিন্ন এলাকার চিংড়ি চাষি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাগেরহাট, মোংলা, চিংড়ি, রামপাল, ফকিরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চিংড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নদী থেকে চিংড়ি পোনা আহরণে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও পথে পথে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ দেশের চাহিদার তুলনায় হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনা মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ। ফলে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে গেলে চিংড়ি চাষ মারাত্মক সংকটে পড়বে।
প্রান্তিক চাষিদের দাবি, কয়েক দশক ধরে নদী থেকে সংগৃহীত চিংড়ি পোনার ওপর নির্ভর করেই এ অঞ্চলে চিংড়ি শিল্প গড়ে উঠেছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। চিংড়ি শিল্পে ধস নামলে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি মহল পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে চিংড়ি পোনা আহরণ পুরোপুরি বন্ধের চেষ্টা করছে। তবে নদীতে পোনা আহরণের সময় অন্যান্য মাছের রেণু সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় চাষিরা সচেতন রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
চাষিরা বলেন, চিংড়ি বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী শিল্প। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক উৎস থেকে সীমিত আকারে পোনা আহরণের সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।
এসময় বক্তারা চিংড়ি শিল্প রক্ষায় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।








