০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

বাগেরহাটে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ : ইউপি প্রশাসক অবরুদ্ধ

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও কচুয়া উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা খান মোয়াজ্জামান হোসেন রাসেলের বিরুদ্ধে নাগরিক সেবা দিতে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সেবা গ্রহীতারা মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে কচুয়া উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নাগরিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে নির্ধারিত সরকারি ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করলে দিনের পর দিন পরিষদে ঘুরতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা স্বাভাবিক রাখতে খান মোয়াজ্জামান হোসেন রাসেলকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন নাগরিক সেবার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠতে থাকে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী রিপন হাওলাদার অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে তাকে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বলা হয়েছে। টাকা না দিলে সেবা পেতে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী বাবুল শেখ বলেন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়েও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পাওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

শুধু সাধারণ সেবা গ্রহীতাই নন, ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্যদের কাছ থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রশাসকের বিরুদ্ধে।

নারী ইউপি সদস্য হেনা বেগম, নিলুফা বেগম ও  নিপা বেগম অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন। পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সদস্যদের মতামত ও সহযোগিতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমন কি তাদের মাসিক সম্মানি নিতেও প্রশাসককে ঘুষ দিতে হয়েছে।

প্রশাসককে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কচুয়া উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দৌজা। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রশাসক খান মোয়াজ্জামান হোসেন রাসেলকে পরিষদ কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে তার গাড়িতে করে উপজেলায় নিয়ে যান।

ঘটনার বিষয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দৌজা বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগকারীদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পাঁচজনের স্বাক্ষ্যসহ অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খোকন।

তিনি বলেন, নাগরিক সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ও বাস্তবায়ন নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।

তবে গোপালপুর ইউপি প্রশাসক খান মোয়াজ্জামান হোসেন তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করে বলেন, এসব ষড়যন্ত্র।

অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়