০৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে ডেঙ্গু সচেতনতায় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মিঠু

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে বাগেরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শেখ কামরুজ্জামান মিঠুর উদ্যোগে ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক, আবাসিক এলাকা ও বাড়িঘরের আশপাশে ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তাদের সচেতন করেন। একই সঙ্গে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এ সময় বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে এলাকাবাসীকে পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, বোতলসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়।

সচেতনতামূলক কার্যক্রমে শেখ কামরুজ্জামান মিঠু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা নিধনের ওষুধ ছিটিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। এর পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি ও বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত কয়েকবার এসব স্থান পরীক্ষা করে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসন বা পৌরসভার একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক পরিবারকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীর বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের দিকেও নজর দিতে হবে। কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

শেখ কামরুজ্জামান মিঠু বলেন, ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এলাকার মানুষের সুস্থতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু ডেঙ্গুর মৌসুমে নয়, সারা বছরই বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যেসব জায়গায় পানি জমার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

কার্যক্রমে এলাকাবাসীকে ডেঙ্গুর বিভিন্ন লক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন করা হয়। বিশেষ করে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জ্বর হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মশার উপদ্রব কমাতে নিয়মিতভাবে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সচেতন করা গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এলাকাবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।

বিষয়