বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী মাওলানা এম.এ. করিম ইবনে মছব্বির ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, জনগণের প্রয়োজন এবং জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণীত একটি সময়োপযোগী, বাস্তবধর্মী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই বাজেট কোনো অবাস্তব বা উচ্চাভিলাষী বাজেট নয়। বরং দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে একটি সুষম ও দায়িত্বশীল বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি দেশের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা। বর্তমান বাজেটে জনকল্যাণ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমরা আশাবাদী।”
মাওলানা করিম ইবনে মছব্বির মদ, তামাক ও অন্যান্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “তামাক ও মাদকদ্রব্য মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবার এবং সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর ব্যবহার কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে। এর ফলে মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয় হ্রাস পাবে। একটি সুস্থ, সচেতন ও নৈতিক সমাজ গঠনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নৈতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। বাজেটে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ায় সরকার প্রশংসার দাবিদার।”
মাওলানা এম.এ. করিম ইবনে মছব্বির আশা প্রকাশ করেন যে, বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবে।
পরিশেষে তিনি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এই যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নের জন্য অর্থ উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এবং সরকারের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের অব্যাহত উন্নয়ন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।












